মিশরীয় লাল পেয়ারা (Egyptian Red Guava) বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় একটি উন্নত জাতের পেয়ারা। এর ভেতরের শাঁস লাল বা গাঢ় গোলাপি রঙের হয়, স্বাদ মিষ্টি এবং বাজারমূল্যও সাধারণ পেয়ারার তুলনায় বেশি।
বৈশিষ্ট্য
- ফলের আকার মাঝারি থেকে বড়।
- ভেতরের শাঁস লাল বা গাঢ় গোলাপি।
- স্বাদ মিষ্টি ও সুগন্ধযুক্ত।
- বীজ তুলনামূলক কম এবং নরম।
- ভিটামিন C, A ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ।
- গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ফলন ভালো দেয়।
গাছের উচ্চতা
- সাধারণত ৮–১৫ ফুট পর্যন্ত হয়।
- নিয়মিত ছাঁটাই করলে ৬–৮ ফুটের মধ্যেই রাখা যায়।
ফল ধরতে সময়
- কলমের চারা হলে: ৮–১২ মাসের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে।
- বীজের চারা হলে: ২–৩ বছর লাগতে পারে।
ফলের ওজন
- সাধারণত ২০০–৫০০ গ্রাম।
- ভালো পরিচর্যায় ৬০০ গ্রাম বা তারও বেশি হতে পারে।
চাষের উপযুক্ত সময়
- বর্ষাকাল (জুন–আগস্ট) চারা রোপণের জন্য সবচেয়ে ভালো।
- তবে সেচের ব্যবস্থা থাকলে সারা বছর লাগানো যায়।
মাটি
- দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো।
- পানি জমে থাকে এমন জমি এড়ানো উচিত।
- pH ৫.৫–৭.৫ উপযুক্ত।
সার প্রয়োগ
প্রতি গাছে বছরে:
- গোবর: ১০–১৫ কেজি
- ইউরিয়া: ৩০০–৫০০ গ্রাম
- টিএসপি: ২৫০–৪০০ গ্রাম
- এমওপি: ২০০–৩০০ গ্রাম
বছরে ২–৩ কিস্তিতে প্রয়োগ করা ভালো।
সেচ
- গ্রীষ্মে ৭–১০ দিন পর পর।
- বর্ষায় সাধারণত অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন হয় না।
রোগ ও পোকা
- ফলমাছি
- মিলিবাগ
- পাতার দাগ রোগ
প্রতিরোধের জন্য:
- আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে নষ্ট করতে হবে।
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাগান রাখতে হবে।
- প্রয়োজনে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
ফলন
- ২–৩ বছরের গাছ থেকে বছরে ৩০–৮০ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।
- পরিণত গাছে আরও বেশি ফলন হতে পারে।
বাজার মূল্য
লাল শাঁসের কারণে এই জাতের পেয়ারার চাহিদা বেশি। মৌসুম ও এলাকার উপর নির্ভর করে সাধারণ পেয়ারার তুলনায় ১.৫–৩ গুণ বেশি দামে বিক্রি হতে পারে।
সুবিধা:
✔ দ্রুত ফল দেয়
✔ আকর্ষণীয় লাল শাঁস
✔ উচ্চ বাজারমূল্য
✔ টবে ও জমিতে চাষ করা যায়
✔ পুষ্টিগুণ বেশি






Reviews
There are no reviews yet.